জলে ভিজে অভিনয় করে জলে আগুন লাগিয়ে দিয়েছেন যে সব বলিউড নায়িকারা

0
1663

স্বল্পবসনারা রুপোলি পর্দায় বারবার ঝড় তুলেছেন। ঝর্ণার জলে অথবার বর্ষার জলে সিক্ত সেই নারী শরীরের ঝড় শুধু ওপারেই থেমে থাকেনি, তা নদীর খরস্রোতের মতো তীরবেগে এগিয়ে এসে আছড়ে পড়েছে অগণিত পুরুষহৃদয়ে। সে আছড়ে পড়ার ধাক্কা যেন অন্য অনুভূতির জোয়ার তুলেছে বারবার। আর সেই ধারা যেমন আগেও ছিল, তেমনই এখনও একইভাবে তা আবহমান। চলুন একবার চোখ রাখি সেই সব সুনামিতে, যার হাত থেকে কেউই বাঁচতে পারেনি, বলা ভালো বাঁচতে চায়নি।

হলিউডের সিনেমাগুলোতে হামেশাই দেখা যায় স্নানদৃশ্য। সমুদ্রের তীরে, ঝরনার নিচে স্নান করছেন নায়িকা, তখনই ঘটে নায়কের আগমন। অতঃপর ভালোবাসার আবেশে হারিয়ে যাওয়া।

পশ্চিমা ছবিতে এমন দৃশ্যকে স্বাভাবিক দেখা হলেও উপমহাদেশেল রক্ষণশীল সমাজে এসব দৃশ্য বারবারই হয়েছে আলোচিত, বিতর্কীতও। ভেজা শরীর দর্শকের সামনে তুলে ধরে আলোচিত হয়েছেন নায়িকারাও চলুন দেখে নেওয়া যাক, বলিউডের সেই সব নায়িকাদের যারা স্নানদৃশ্যে বাজিমাত করেছেন রুপালী পর্দায়।

মন্দাকিনী –

সময়টা যদি ১৯৮৫ হয় তাহলে তো এটা নিঃসন্দেহে বড়সড় সাহসিকতার পরিচয় বইকি৷যতই তাঁরা পর্দার ওপারের লোক হোন না কেন, আটের দশকের দর্শকের কাছে এটা মেনে নেওয়াটাই একটা ব্যাপার ছিল। ছবি ‘রাম তেরি গঙ্গা মইলি’৷ পরিচালক রাজ কাপুর। ছবির নায়িকা মন্দাকিনী নায়কের সঙ্গে প্রেম করতে করতে হঠাৎ ঝরনার জলে ভিজতে শুরু করে। পরনে তার পাতলা ফিনফিনে সাদা শাড়ি। ক্ষমতায় এই শাড়ি এক্স-রে মেশিনকেও ছাপিয়ে যায়। দুর্দান্ত প্যাকেজে রোমান্টিক গানের সঙ্গে মন্দাকিনী বিভিন্ন বিভঙ্গে নাচে এবং ভিজে যায়। দর্শক অধীর অপেক্ষায়। কখন কেস একটু এদিক ওদিক হয়। কিন্তু ও যে সিনেমা। সবটাই আগে থেকে ঠিক করা। তাই ও জিনিসটি হবার নয়। কিন্তু পিপাসু মন আশা ছাড়ে না। একসময় নায়িকার নাচ শেষ হয়। উনিশ পেরােনো ছেলেটার মোহভঙ্গ হয়।

জিনাত আমান –

যৌ’ন আবেদনে কম যান না জিনাত আমানও। সেই সময়ের নায়িকাদের মধ্যে তিনি সাহসী বলেই কানাঘুষো ছিল। প্রমাণ পাওয়া গেল ‘সত্যম শিবম সুন্দরম’(১৯৭৮)সিনেমায়। মন্দাকিনীর মতো ভরাট স্বাস্থ্যের অধিকারী তখন তিনি ছিলেন না। কিন্তু তাতে কি, হাঁটুর ওপর পর্যন্ত সাদা কাপড়ে মোড়ানো ছিপছিপে মেয়ের দেহ ক্রমাগত সুরের ছন্দে নেচে চলেছে, অবিশ্রান্ত জলের তলায়। কার না দেখতে ভাল লাগে বলুন তো? ‘ভাের ভয়ে পনঘট পে’ গানের দৃশ্যে জিনাত কম চমক দিলেন না।

শিল্পা শিরোদকার –

১৯৯০ সালে ‘কিষেণ কানাইয়া’ ছবিতে নায়িকা শিল্পা শিরোদকার আগেকারই নায়িকাদেরই মতো একটি সাদা স্বচ্ছ শাড়িতে একটি ঝরনার তলায় গানের দৃশ্যে নেচেছিলেন।

মুুনমুন সেন –

১৯৯৪ সালে ‘গজ মুক্তা’ ছবিতে বলিউড এবং টলিউডের হট নায়িকা ওইরকমই একটি দৃশ্যে মুুনমুন সেন যেন সৌন্দর্যে যৌন আবেদনে ছাপিয়ে গেলেন আগের সবাইকে।

রবিনা –

এই তালিকায় রয়েছেন রবিনা ট্যান্ডনও৷ দুটি গানের কথা না বললেই নয়, আর তা হ’ল, ‘কিমত’ ছবির ‘দে দিয়া’ এবং ‘মোহরা’ ছবির ‘টিপ টিপ বরসা পানি’৷ দু’টি গানেই খিলাড়ি অক্ষয়ের সঙ্গে রবিনার কেমিস্ট্রি সত্যি সব বাঁধ ভেঙে দিয়েছিল। তার সঙ্গে ভিজে যাওয়া শাড়িতে রবিনা যেন সব কিছুর উর্দ্ধে!

উর্মিলা মার্তন্ডকার –

‘দৌড়’ ছবিটি দেখছেন? যারা দখেছেন তারা নিশ্চয় ‘জেহরিলা প্যায়ার’ গানটি মনে করতে পারবেন, যেখানে উর্মিলা মাতন্ডকর ঝর্ণার জলে এক অন্য নেশায় মেতে ওঠেন। যা পর্দার এপারে বসে আপনার গায়েও কাঁটা দিয়ে উঠবেই।

মাল্লিকা শেরওয়াত –

‘খোয়াইশ’ ছবি দিয়েই প্রথম লাইমলাইটে আসেন মাল্লিকা শেরওয়াত। সিনেমায় অনেকগুলো রগরগে দৃশ্য থাকলেও সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হয়েছিল মাল্লিকার ঝর্নায় স্নানের দৃশ্যটি।

কাজল –

কাজল তার অভিনয়ের জোরে বলিউডে খুব কম সময়ের মধ্যেই নিজের জায়গা করে নিয়েছিলেন। তবে গার্ল নেক্সট্ ডোরের পাশাপাশি তিনিও ঝর্ণার জলে অন্যান্য নায়িকাদের মতো এক অন্যরকম গানে ধরা দিয়েছিলেন ‘সপনে’ ছবিতে। কি বিশ্বাস হচ্ছে না? তাহলে একবার এই ছবির ‘দুর না জা মুঝ সে’ গানটিত চোখ রেখেই দেখুন না!

করিনা কাপুর –

এবার আসা যাক করিনা প্রসঙ্গে। প্রথম থকেই তিনি সব ধরনের চরিত্রে অভিনয়ে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। তা কলেজ স্টুডেন্ট হোক অথবা চামেলির মতো চরিত্র, অথবা অশোকা ছবিতে কৌরবকী। তার রুপে মোহিত হয়েছে তার ভক্তরা। আর তার ‘সন সানানা’ গানটি অথবা ‘আয়ি রে আয়ি রে খুশি’ সেরকমই দু’টি উদাহরণ।

ক্যাটরিনা কাইফ-

অক্ষয়ের সঙ্গে রবিনার কেমিস্ট্রির মতোই ক্যাটরিনাও কিন্তু তার সঙ্গে জোট বেঁধে একইরকম রসায়ন উপহার দিয়েছেন দর্শকদের, যার অন্যতম উদাহরণ দে দানা দন ছবির গলে লগ যা গানটি। মনে পড়ছে দৃশ্যগুলি?

সুস্মিতা সেন –

ম্যায় হুঁ না সিনেমাতে।

ঐশ্বর্যা রাই –

রাবণ সিনেমাতে।