নিজের অজান্তেই ফেসবুকে হ্যাকারদের ফাঁদে পা দিচ্ছেন না তো!! জেনে নিন

0
535

বর্তমান প্রজন্ম থেকে শুরু করে প্রবীণ প্রজন্ম সকলেই ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ট্যুইটার সহ একাধিক সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্ত। আর এই আসক্তি থেকেই সকলেই ডেকে আনছেন বিপদ। কেননা আপনার জরুরী তথ্য চুরি করার জন্য ফাঁদ পেতে বসে আছে হ্যাকাররা। কিভাবে সেটাই এবার খোলসা করে বলি।

অনেক সময়ই আপনার সঙ্গে কোন বলিউডের নায়ক-নায়িকার মিল রয়েছে? আপনাকে পঁচিশ বছর পর কেমন দেখতে হবে? আপনার সঙ্গে কোন বন্যপ্রাণীর মিল রয়েছে?

আপনাকে দেখতে হলিউডের কোন নায়ক নায়িকার মত? অথবা আপনার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু কে? বা আপনি কার হাতে খুন হতে পারেন? বা আপনার মৃত্যু কিভাবে হবে? বা অনেক সময় এমনও প্রশ্ন দেখা যায় যে, আপনার আগের জন্মের পরিচয় কি ছিল?

এরকমই ফেসবুকে ছড়িয়ে রয়েছে হাজারো ধরনের গেম বা অ্যাপ। সাইবার বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন থার্ড পার্টি অ্যাপ গুলি ডেটা কালেকশনের সফটওয়্যার হিসেবে কাজ করে। আর প্রশ্নের জবাব দেওয়ার নামে আপনি একবার এই অ্যাপ ব্যবহার করলে, আপনার নিজেরই অজান্তে হ্যাকাররা আপনার মোবাইল কম্পিউটারে চিরস্থায়ী ঠাঁই করে নিতে পারে। এর পাশাপাশি আপনার ফেসবুকের প্রোফাইল থেকে জন্ম তারিখ ব্রাউজিং হিস্ট্রি সহ যাবতীয় তথ্য চোখের নিমেষে চুরি হয়ে যায়।

এছাড়াও মোবাইলে সেভ করে রাখা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, যেমন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর এটিএম পিন সহ একাধিক তথ্য হাতিয়ে নেন হ্যাকাররা। কাজেই এগুলোতে ক্লিক করার আগে একবার ভাবুন। কেননা আপনার একটা বাটন ক্লিকেই চুরি হয়ে যেতে পারে আপনার পাকাপাকিভাবে সমস্ত তথ্য। অনেক সময় কম্পিউটার মোবাইল ফোনে এই হ্যাকাররা পাকাপাকিভাবে নজরদারি চালানো শুরু করে। এরফলে আপনার মোবাইলের ক্যামেরা কনট্রাক্ট দখল হয়ে যায়। তাই এটিএম ব্যবহার করার আগে অথবা প্লে স্টোর থেকে কোন অ্যাপ ডাউনলোড করার আগে রেটিং রিভিউ ভালো করে দেখুন।

ন্যাসকমের ইন্টারনেট নিরাপত্তা বিষয়ক সেলের চেয়ারম্যান ও ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ এথিক্যাল হ্যাকিং এর অধিকর্তা সন্দীপ দাশগুপ্ত জানান এগুলি আসলে একেকটি ক্ষতিকারক থার্ড পার্টি অ্যাপ। ফেসবুক নিরাপত্তা বিষয়টি মাথায় রেখেই এই থার্ড পার্টি অ্যাপ এর দায়িত্ব নিতে চায় না। তাই এই অ্যাপটি ব্যবহার করার পূর্বে একবার ভেবে দেখুন। কারন সাধারন মানুষ সতর্ক না হলে এই হ্যাকারদের দমানোর মুশকিল। ২০১৪ সালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এধরনের চারটি অ্যাপকে ক্ষতিকারক তকমা দিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল এবং মন্ত্রকের বক্তব্য ছিল এই এখনই গুপ্তচরবৃত্তির জন্য ব্যবহার করছে পাকিস্তান।

যা সাইবার অপরাধের হাতিয়ার হিসেবে একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। তাই ন্যাসসকমের ইন্টারনেট নিরাপত্তা বিষয়ক সেলের কো-চেয়ারম্যান সুশোভন মুখোপাধ্যায়ের কথায় অ্যান্ড্রয়েড ফোন বা কম্পিউটার, ল্যাপটপ সবেতেই অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করুন। পাশাপাশি যদি আপনি এই ধরনের অ্যাপ ব্যবহার করেন তাহলে প্রথম কাজই হলো সেগুলি ডিলিট করে দেওয়া এবং পাসওয়ার্ড বদলানো। এছাড়াও কোনরকম গেম ডাউনলোড করবেন না। আসলে এগুলি এমনই এক বিশেষ ধরনের অ্যাপ যার দ্বারা সহজেই হ্যাকাররা আপনার তথ্য চুরি করে নিতে পারে। কিন্তু এর বিরুদ্ধে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। তাই এবার থেকে সচেতন থাকুন এবং নিজের সমস্ত তথ্য সুরক্ষিত রাখুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here