সানি লিওনের যে ছবিগুলো মানুষ ইন্টারনেটে সবচেয়ে বেশিবার দেখেছে

0
224

সানি লিওনকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মত বোকামি আমি করবো না। কারণ, সানি লিওনকে চেনেন না এমন মানুষ হয়ত খুঁজে পাওয়া যাবে না। আপনি যদি মনে করে থাকেন সুপার সে’ক্সি সানি লিওন মুখিয়ে ছিলেন প’র্নস্টার হওয়ার জন্য, তাহলে আপনি ভুল ভাবছেন। প্রথমে এ অভিনেত্রী মানুষকে সু’ড়সু’ড়ি দেওয়ার ব্যবসায় আসতে চাননি; বরং তিনি হতে চেয়েছিলেন একজন নার্স।

 

নিজেকে একজন প’র্নস্টার হিসেবে কল্পনাও করেননি সানি। বস্তুত তার বয়স যখন ১৬, তখনও তিনি একজন নার্স হতে চেয়েছিলেন।

সানির বয়স যখন পনেরো, তখন তিনি কাজ করতেন একটি ব্যাকারিতে। পরে আয়কর অফিসেও কাজ করেন এই আবেদনময়ী নায়িকা। কিন্তু তার ভেতরে ছিলো নার্স হওয়ার বাসনা, এর জন্যে তিনি প্রচুর পড়াশুনা ও একটি প্রশিক্ষণ সেন্টারেও ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে নার্স হয়ে উঠতে পারেননি তিনি। বন্ধুর পরামর্শে জড়িয়ে পড়েন প’র্ন ব্যবসায়।

বর্তমানে প’র্ন ব্যবসায় না থাকলেও তার যৌ’ন আবেদনকে কাজে লাগিয়ে তিনি বলিউডে একটা ভালো অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন।

জানা গেছে, লাস্যময়ী সানি অন্য দশজন সাধারণ মানুষের মতোই ছিলেন। নিজের উত্তাল জীবনের ব্যতিক্রমী পথচলার ইঙ্গিত দিয়ে পরবর্তী সময়ে প্রথম চুম্বনটি করে বসেন তার সহপাঠীকে।

আর স্কুল না পেরোতেই এক বাস্কেট বল খেলোয়াড়ের প্রেমে পড়েন তিনি। জীবনের প্রথম প্রেমের ছোয়ায় ১৬’তে পৌঁছেই কুমা’রীত্ব বিসর্জন দেন। কারো প্ররোচনার ধার ধারেননি। স্বেচ্ছায় সেই জীবনের পথে হেঁটে গেছেন, খেয়াল খুশী মতো চলেছেন।

কানাডার ওন্টারিওর সার্নিয়া শহরে সানির জন্ম ১৯৮১ সালের ১৩ই মে। শিখ ধর্মাবলম্বী সানির বয়স যখন ১৪ বছর, তখন তার পরিবার কানাডা থেকে মিশিগানে পাড়ি দেয়। পরে ক্যালিফোর্নিয়ার লেক ফরেস্টে পাকাপাকিভাবে বসবাস শুরু করে সানির পরিবার।

এর পরের ইতিহাস তিনি নিজের হাতেই তৈরি করেছেন। বিশ্বের সেরা প’র্নস্টারদের তালিকায় তার নাম ছয় নম্বরে। কিন্তু সেই পথ থেকে তিনি এখন অনেকটাই সরে এসেছেন।

এখন তিনি সেই তালিকার কথা ভাবেনও না; বরং মুম্বাইয়ের রূপালী পর্দার তারকাদের তালিকায় যতো দ্রুত সম্ভব উপরে উঠতে চাচ্ছেন তিনি। এই ক্যারিয়ারে তিনি কতদুর কি করতে পারেন তা ভবিষ্যতই বলে দেবে।

‘মাঝে মধ্যে আমি চিন্তা করে খুবই অবাক হই। আমি কোথায় ছিলাম আর এখন কোথায় আছি। কিভাবে আমার জীবনের সবকিছু পাল্টে গেল।’ তার অতীত এবং বর্তমান অবস্থান নিয়ে তার সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে এমনি কথা লিখেছেন সাবেক প’র্ন তারকা বলিউড অভিনেত্রী সানি লিওন। তারপর তিনি বর্ণনা করেন বিগ বস এবং বলিউডে আসার বাস্তব গল্প।

এ অভিনেত্রীর ভাষায়, ‘আমি এবং আমার স্বামী আমাদের বাড়ির সোফায় বসেছিলাম। হঠাৎ আমার কাছে বিগ বসের ব্যাপারে প্রস্তাব আসে। তারপর স্বামীর সঙ্গে আলাপ করে রাজি হয়ে যাই। আর সেই ঘটনা আমার জীবনকে পাল্টে দেয়। সে সময় আমি বলেছিলাম, ‘হ্যাঁ, আমি এই সুযোগটি কাজে লাগাব।’

তার আত্মজীবনীতে নিজের নানা প্রতিবন্ধকতার কথাও লিখেছেন সানি লিওন। তিনি লিখেছেন, ‘আমার সঙ্গে অনেকের রাস্তায় দেখা হয়, আবার আনেকেই মেইল পাঠায় তারা তাদের দাম্পত্য জীবনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলতে চায়। তখন চিন্তা করি যদি আমি তাদের খোলামেলাভাবে কথা বলার আশা দিতে পারতাম।

সে’ক্সের বিষয়টি কোনো উ’ন্মাদ’না নয়। এটা সবাই করে। এটা এমন একটা বিষয় যেটা প্রতিদিন, প্রতি সেকেন্ডে বিশ্বজুড়ে ঘটছে অথচ আমরা সবার সামনে খোলামেলাভাবে সেটা বলতে পারি না। যদি আপনি আপনার সঙ্গীদের সঙ্গে বিষয়গুলো খোলামেলাভাবে আলোচনা করতে পারেন তাহলে বিষয়টি সম্পূর্ন অন্যরকম হবে এবং আমি মনে করি, সেটা ভালো হবে।’

নিজের অতীত পেশা অ্যা’ডাল্ট এন্টারটেইনমেন্ট নিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘মানুষ মনে করে আ্য’ডাল্ট এন্টারটেইন্টমেন্ট মানেই খারাপ কিছু। যাইহোক, আমেরিকায় দুটো মানুষ একসঙ্গে বারে দেখা করল, তারপর তারা অ্যাপার্টমেন্টে গেল তারচেয়ে অ্যা’ডাল্ট এন্টারটেইনমেন্ট বিষয়টি বেশি সুরক্ষিত।

আপনার ওই ব্যক্তি সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই, আপনি জানেন না ওই ব্যক্তি দুইদিন বা এক সপ্তাহ আগে কি করেছে। আর এ বিষয়টি আমেরিকাতেও খোলাখুলি আলোচনা হয় না।

বারে যখন আপনার সঙ্গে কারো পরিচয় হয় এবং ঘনি’ষ্ঠ সম্পর্কে যান তার আগে আপনার প্রশ্ন করা উচিৎ, শেষবার কখন তিনি নিজের পরীক্ষা করিয়েছেন? আপনি যখন এ ধরণের প্রশ্ন করা শুরু করবেন তখন সচেতনতা আরো বাড়বে।

কিন্তু ইন্ডিয়াতে মানুষ দাবি করতে পছন্দ করে, ‘আমি বিয়ের আগে পর্যন্ত ভা’র্জিন থাকব’ অথবা ‘আমি ভালোবাসা এবং বিয়ের ব্যাপারে বিশ্বাসী।’ এ ব্যাপারটি আমার বাবা মায়ের বেলাতেও ঘটেছে। কারণ বিয়ের আগে তারা কেউই সে’ক্স করেননি।’

 

তার এ আত্মজীবনীতে উঠে এসেছে বলিউড সিনেমায় তার প্রতিবন্ধকতা। তিনি বর্ণনা করেছেন, যখন ‘জিসম টু’ সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছিল তখন অনেকেই সিনেমাটির পোস্টার পুড়িয়েছিল।

আমি তখন বুঝতে পেরেছিলাম এরা একদিন ঠিকই আমাকে পছন্দ করবে কিন্তু এখন আমাকে পছন্দ করে না। আমি ভয় পাচ্ছিলাম তারা আমার পোস্টারকে পুঁড়িয়েছে তারা যেন আমাকে না পোড়ায়! আমি তাদের চিন্তাধারা পরিবর্তন করতে পারব না।

দর্শকদের ব্যবহারে অনুশোচনা করে এ অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘তারপরেও আমি প্রতি মুহূর্তে বিচারের সম্মুখীন হই। কেউ না কেউ আপনার দোষ বিচার করছে-ই। আপনি যখন বড় পর্দায় সিনেমায় আপনাকে উপস্থাপন করলেন তার মানে আপনি নিজেকে বিচারের কাঠগড়ায় উপস্থাপন করলেন। আমি জানি আমি কারো সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারব না কিন্তু আমাকে তো সুযোগ দেওয়া উচিৎ।

আমি জানি, আমার অতীত পরিবর্তন করতে পারব না। আমি এটাও জানি, অতীতে আমি যা করেছি তা ইন্টারনেট থেকে মুছে ফেলতে পারব না। কিন্তু আমি আমার অতীত নিয়ে লজ্জাবোধ করি না। আমার অতীত আমাকে আমার বর্তমান অবস্থানে নিয়ে এসেছে। আমি এ জন্য খুশি এবং আমি এ কারণে গর্ববোধ করি।

‘সে’ক্সি’ এই শব্দটা আমার কাছ থেকে সরিয়ে ফেলতে চাই না। এটাই আসল আমি। মানুষ বুঝতে পারছে না তারা সানি লিওনকে বড় হতে দেখছে। অ্যা’ডাল্ট অভিনেত্রীর বিষয়টি আমার জীবনের একটি অধ্যায় এবং এখন সে অধ্যায়টি বন্ধ হয়ে গেছে।

আমি কোনো ইমেজ ঝেড়ে ফেলতে চাচ্ছি না। আমি দুটি কাজ এক সঙ্গে করতে পারব না। তাই আমি সে অধ্যায়টি বন্ধ করে দিয়েছি এবং বলিউডের প্রতি মনোনিবেশ করেছি।