স্কুলের পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে – সিঙ্গুরে কবে সরষে বীজ ছড়িয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী

0
794

সুপ্রিম কোর্ট ২০১৬ সালে রায় দিয়েছিল, বামফ্রন্ট সরকারের সময়ে সিঙ্গুরে কারখানা করার জন্য যে ভাবে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল, তাতে প্রক্রিয়াগত ত্রুটি ছিল। এরপর রাজ্য সরকারকে জমি ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল দেশের শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়েছিল তৃণমূল। ওই জমিতে কৃষিকাজ শুরুর সূচনা হিসেবে ওই বছর ২১ অক্টোবর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরষে বীজ ছড়িয়েছিলেন।

সিঙ্গুরের মহামায়া স্কুলের ইতিহাস পরীক্ষায় অষ্টম শ্রেণির ছাত্রদের লিখতে হয়েছে, কবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিঙ্গুরের জমিতে সরষে বীজ ছড়িয়েছিলেন। শুধু প্রশ্ন নয়। সঙ্গে চারটে উত্তরের অপশনও দিয়ে দেওয়া হয় ছাত্রদের। ২০১৬ সালের ১৮/১৯/২০/২১ অক্টোবর। আজব প্রশ্ন এল সিঙ্গুরের স্কুলে। ক্লাস এইটের ইতিহাস প্রশ্নপত্র নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে ইতিমধ্যেই।

এক সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ‍্যম দ‍্য ওয়াল এর প্রতিবেদন থেকে জানা যায় এমন প্রশ্নের কারণ জানতে চাওয়ায় স্কুলের প্রশান শিক্ষক আশিস সিনহা বলেন, “আমাকেও জানতে হবে যিনি প্রশ্ন করেছেন তাঁর থেকে?” এরপর তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয় স্কুল পরিচালন সমিতি বা স্থানীয় শাসকদলের কোনও চাপ ছিল কিনা এই প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে। শুনেই রেখে যান মাস্টারমশাই। বলেন, “আপনাকে অত কথা আমি বলতে পারব না। আমাকে আর ফোন করবেন না।” বলেই ফোন কেটে দেন আশিসবাবু।

লোকসভা ভোটেও সিঙ্গুরেও ভরাডুবি হয়েছে শাসকদলের। ওই বিধানসভা থেকে ব্যাপক ভোটে লিড পেয়েছিলেন বিজেপির লকেট চট্টোপাধ্যায়। এই প্রশ্ন নিয়ে অবশ্য রাজনৈতিক আক্রমণ না করে রসিকতা করছে বিজেপি। সিঙ্গুরের এক বিজেপি নেতার কথায়, “আসলে তৃণমূল পার্টিটা তো ক’দিন বাদেই ইতিহাস হয়ে যাবে, তাই এখন থেকেই ইতিহাসে নিজেদের নাম তুলে রাখার চেষ্টা করছে!”