ব্লু হোয়েলে পর এবার এলো ‘মমো’ গেম, ছড়াচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে

0
616

ব্লু হোয়েল গেমের আতঙ্ক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই ফের অনলাইন গেমের আতঙ্ক ছড়িয়েছে ৷ এবার আতঙ্কের নাম ‘মমো’ ৷ হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে ‘মমো’ নামের এই অনলাইন গেম ৷ ইতিমধ্যেই এই অনলাইন গেম নিয়ে দক্ষিণ আমেরিকায় সতর্কতা জারি হয়েছে ৷ নতুন এই গেমকে বিশ্লেষকরা ব্লু হোয়েলের সঙ্গে তুলনা করেছেন ।

গত ২৫ জুলাই আর্জেন্টিনার রাজধানীতে একটি শিশুকন্যার আত্মহত্যার জন্য এই মমো গেমকে দায়ী করা হয়েছে । বিশ্লেষকরা হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এ খেলা মানুষকে মারাত্মক পরিনতির দিকে নিয়ে যেতে পারে । যদিও এর মধ্যেই এটি এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপে ছড়িয়ে পড়েছে ।

মমো আসলে কী ?

মেক্সিকোর অনলাইন অপরাধ নিয়ে কাজ করা পুলিশ ইউনিট বলছে, এটা শুরু হয়েছে ফেসবুকে । একদল লোক একে অন্যকে প্রলুব্ধ করে একটি অপরিচিত নম্বরে কল দেওয়ার জন্য । যদিও সেখানে একটি সতর্কতা দেওয়া ছিল ।

মেক্সিকোর পুলিশ জানায়, অনেক ব্যবহারকারী জানিয়েছে যে মমোতে বার্তা পাঠানোর পর সে সহিংস ছবি পাঠাবে । অনেকে হুমকিমূলক বার্তা পেয়েছেন বা ব্যক্তিগত তথ্যও ফাঁস হয়ে যাচ্ছে । মমো ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী, আমেরিকা থেকে ফ্রান্স কিংবা আর্জেন্টিনা থেকে নেপাল । স্পেনে পুলিশও এ ধরনের গেম উপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছে নাগরিকদের ।

মেক্সিকোর মতো স্পেনও ট্যুইটারে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে এবং লোকজনকে এ খেলায় অংশ নিতে নিরুৎসাহিত করার পদক্ষেপ নিয়েছে । হ্যাশট্যাগ ইগনোর ননসেন্স দিয়ে চলছে প্রচার, যাতে বলা হচ্ছে ‘ডোন্ট অ্যাড মোমো টু ইওর কন্টাক্টস’ ।

কিন্তু এতসব সতর্কতা সত্ত্বেও এখনও বিভ্রান্তি রয়েছে যে, আসলে কোথা থেকে মোমোর সূচনা হল ?

মমোর এমন বিস্তার নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছে । অনলাইন প্ল্যাটফর্ম রেডিট বলছে, তাদের সবচেয়ে পড়া হয়েছে এমন পোস্টগুলোর একটি হল হোয়াটসঅ্যাপ কন্যা মোমো কী ও কে?

রেডিট বলছে, ‘একটি ভিডিও পেয়েছি এটি সম্পর্কে এবং এটি ভীতিকর’ । সবচেয়ে জনপ্রিয় উত্তর ছিল, স্প্যানিশভাষী কোনও দেশ থেকে একজন ইনস্টাগ্রাম থেকে একটি ছবি নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট তৈরি করে । লোকজন সেখান থেকে একটি কন্টাক্ট নম্বর পায় ও গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে কেউ একে স্পর্শ করলে সে তাকে গ্রাফিক ছবি ও বার্তা দেবে । কেউ কেউ বলেন যে, ব্যবহারকারীর সব ব্যক্তিগত তথ্যে তার প্রবেশাধিকারের সুযোগ আছে ।

দেখুন ভিডিও –

১১ই জুলাই ইউটিউবার রেইনবট এ বিষয়ে একিট ভিডিও পোস্ট করেন । ভিডিওটি ইতিমধ্যে পনেরো লক্ষেরও বেশি মানুষ দেখে ফেলেছে । কিন্তু তিনিও আসলে জানেন না কে এই মমোর স্রষ্টা । অর্থাৎ মমো কে তৈরি করেছেন সেটি তাঁরও জানা নেই ।

এখন যতটুকু জানা যাচ্ছে, হোয়াটসঅ্যাপ গেমটি জাপানের কোড সম্বলিত তিনটি ফোন নম্বরের, কলম্বিয়ার কোড সম্বলিত দুটি আর মেক্সিকোর কোড সম্বলিত আরেকটি নম্বরের সঙ্গে সংযুক্ত । আর ছবিটি নেওয়া হয়েছে টোকিও’র একটি প্রদর্শনী থেকে ।

যদিও এটা জানা খুবই কঠিন যে, গেমটি আসলে কোথা থেকে এসেছে । কিন্তু এটি এখন জানা যে ছবিটি জাপানের মোমোকেই প্রতিনিধিত্ব করতে ব্যবহার করা হয় । মমোর ভীত চাহনির মুখ একটি পাখি মানবীর মূর্তিকে তুলে ধরে । ২০১৬ সালে টোকিওতে ভ্যানিলা গ্যালারিতে একটি প্রদর্শনীর অংশ ছিল এটি ।

দু’বছর আগে আরেকটি প্রদর্শনীতে মমো ছিল বিশেষ আকর্ষণ । বহু মানুষ মমোর সঙ্গে পোজ দিয়ে ছবি তুলেছে এবং এমন বহু ছবি সোশ্যাল মিডিয়া ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত হয়েছে । মেক্সিকোর পুলিশের দাবি, কেউ ইনস্টাগ্রাম থেকে ওই অনুষ্ঠানের ছবি নিয়ে সেটাকেই কেটে কুটে এমন বানিয়েছে ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here