‘বিয়ের আগে এক্স বয়ফ্রেন্ডের সাথে দুর্ঘটনা ঘটে গেছে’ তবে আর চিন্তা নেই, ফুলসজ্জার রাতে রক্ত খরণ করে নিশ্চিত সতীত্ব প্রমাণ করার ঔষুধ বিক্রি করছে Amazon

0
89

জেটগতির যুগ। ফোর জি স্মার্টফোনে হোয়াটসঅ্যাপ-ফেসবুকে খোলা আকাশ। কিন্তু কি যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়েছে ভারতীয় সমাজ? আদ্যিকালের ধ্যানধারণা থেকে কতটা মুক্ত হতে পেরেছি আমরা? যুক্তি-তর্কের মাঝেই অনলাইন পণ্য বিপণী সংস্থা আমাজনের একটি ‘প্রোডাক্ট’ই যেন বেআব্রু করে দিল যাবতীয় আধুনিকতার মোড়ক। আই-ভার্জিন নামে একটি ট্যাবলেটের বিক্রি শুরু হয়েছে আমাজনে। তার কার্যকারিতা শুনেই অনেকেই থ। ওই ট্যাবলেটটি খেলে বিয়ের প্রথম রাতে নিজের ‘সতীত্ব’-এর প্রমাণ দিতে পারবেন মহিলারা।

প্রতীকি ছবি

অনলাইন পণ্য বিপণী সংস্থা অ্যামাজন সম্পর্কে আমরা সকলেই অবগত। আমরা কম-বেশি সবাই সেখান থেকে আমাদের পছন্দসই জিনিস কেনাকাটা করি। কিন্তু, আপনারা হয়ত অনেকেই অ্যামাজনে বিক্রি হওয়া একটি পণ্য, ‘আই-ভার্জিন’ নামক একটি ট্যাবলেটের বিষয়ে শোনেন নি, যা মহিলাদের সতীচ্ছদ অক্ষত রাখার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করতে সক্ষম হবে। ‘আই-ভার্জিন’ নামক এই ট্যাবলেটের মাধ্যমে বিয়ের প্রথম রাতে কোনও মহিলা নিজের সতীত্ব অক্ষত থাকার প্রমাণ দিতে পারবেন। অবাক লাগছে তো! শুধু আপনি নন, এরকম পণ্যের কথা শুনে অবাক হচ্ছেন অনেকেই!

পণ্যের বিবরণ অনুযায়ী

১) সতীচ্ছদ অক্ষত না থাকলেও, বিয়ের প্রথম রাতে এটি ব্যবহার করলে রক্তপাত নিশ্চিত

২) কোনও সার্জারির দরকার নেই! অত্যন্ত সহজ, দ্রুত, নিরাপদ এবং সুবিধাজনক

৩) উচ্চ মানের ব্লাড ​​পাউডার

৪) কোনও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই

৫) কোনও অ্যানাস্থেসিয়া নেই এবং বিষাক্ত নয়

অতীতে ভারতীয় সমাজে বিশ্বাস করা হত, বিয়ের প্রথম রাতের মিলনে যদি নারীর যোনি থেকে রক্তপাত হয় এবং সাদা বিছানার চাদরে লেগে থাকা মিলনের রক্ত দেখাতে পারলেই সেই নারী ‘দুশ্চরিত্র’ নয়, ‘খাঁটি’। আর রক্তপাত না হলে সেই নারীকে, ‘খারাপ’, ‘দুশ্চরিত্রা’, তকমা দিয়ে সমাজের এক কোণে ফেলে রাখা হত। তবে, অতীতে এর চল বেশি থাকলেও, দুঃখের বিষয় এই যে, আজকের এই আধুনিক যুগে দাঁড়িয়েও নারীদের অবস্থা অনিশ্চিত। এখনও কোথাও কোথাও নারীদের সতীত্ব নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়।

via

ট্যাবলেটটির গুণাগুন দেখে আঁতকে উঠেছে অনেকেই। নারী আন্দোলনের সঙ্গে জড়িতরা মনে করছেন, মহিলাদের ক্ষমতায়নে একটা ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। তখন এই ধরনের পণ্য মহিলাদের আরও একধাপ পিছিয়ে দিচ্ছে।

অনেকেই হয়তো ভাবছেন শিক্ষার অভাব! না, সেটা নয়। বরং শহরেই গজিয়ে উঠেছে একাধিক নার্সিংহোম। যেখানে হাইমেন আবার তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। মোটা টাকা দিয়ে সেই পরিষেবা নিচ্ছেনও বহু মহিলা। সামাজিক চাপের মুখে নতজানু হচ্ছে শিক্ষিতরাও। আরও অবাক হবেন! মহারাষ্ট্রের কনজারভাট সম্প্রদায়ের মহিলাদের বিয়ের আগে সতীত্বের প্রমাণ দিতে হয়। কয়েক শতক ধরে চলে আসছে প্রথা। বিয়ের আগে সাদা চাদরে নারীর সতীত্বের পরীক্ষা নেন স্বামী। প্রমাণ দিতে না পারলে বিয়ে ভঙ্গ। ওই সম্প্রদায়ের নতুন প্রজন্মের মধ্যে উঠেছে বিদ্রোহের আগুন।

সূত্র – ,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here