মাত্র ৪০ পয়সার হজমের ওষুধেই কাবু হতে পারে করো’না

0
387

গ্যাস, অম্বল সারানোর ওষুধ ফ্যামোটিডিন পেপটিক আলসার, বুকজ্বালা, পেট ব্যথা, খাদ্যনালীর ঘা বা সংক্র’মণ জনিত রো’গ সারাতেও কাজে আসে। নানা ব্র্যান্ড নামে বিক্রি হয় এই ওষুধ, যেমন ভারতে ফ্যামোসিড, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পেপসিড। মাত্র ৪০ পয়সায় এই ওষুধ পাওয়া যায় ভারতে। ফ্যামোটিডিনের উৎপাদন ও করো’না চিকিৎসায় এই ওষুধের ট্রায়াল কীভাবে হতে পারে সেই সংক্রান্ত বিষয়ে ইতিমধ্যেই একটি জরুরি বৈঠক হয়েছে।

করো’না চিকিৎসায় আশা জাগাতে পারে অ্যান্টাসিড ফ্যামোটিডিন, নতুন গবেষণায় এমনটাই মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। নিউ ইয়র্কে করোনা রো’গীদের উপরে এই ওষুধের ক্লিনিকাল ট্রায়ালে ভাল পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

 

চীন থেকে খবর এসেছে, উহানে করো’না সংক্র’মণ কাটিয়ে ওঠা বেশ কয়েকজন বয়স্ক রো’গী বদহজমের রো’গী ছিলেন বলে নিয়মিত এই ওষুধ নিতেন। খবরটা দিল্লিতে এসে পৌঁছোনোর পরই তৎপর হয়েছে কেন্দ্র সরকার। সাধারণের জন্য ওষুধ সস্তা এবং সহজলভ্য যে সরকারি বিপণিমালায়, সেই ভারতীয় জনওষধি পরিযোজনার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, ফ্যামোসিড ওষুধটি কী পরিমাণ মজুত রয়েছে এই মুহূর্তে। দেশে ওষুধটি কতটা সহজলভ্য এবং প্রয়োজনে এর উৎপাদন কত বেশি বাড়ানো যেতে পারে, তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে ওষুধ সরবরাহ নিয়ন্ত্রক দপ্তর ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটিকে।

ফ্যামোটিডিন হল গ্যাস, অম্বলের মত রো’গ নিরাময়ে ব্যবহার করা হয়। করো’না সংক্র’মণে যেহেতু পেট ব্যাথা ও অম্বলের মত উপসর্গ দেখা যাচ্ছে, সে ক্ষেত্রে এই ওষুধ কাজে লাগানো যেতে পারে বলে মনে করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এখনও অবধি শুরু মাত্র পরীক্ষামূলক ভাবেই এই ওষুধ প্রয়োগ করা হবে আক্রা’ন্তদের উপর। করো’না ঠেকাতে কতটা কার্যকরী হয়ে উঠতে পারে ফ্যামোটিডিন সেটাই দেখার। বিশেষজ্ঞদের মতে, করো’না আবহে হাইড্রক্সিক্লোরেকুইনের মতো কয়েক দিনের এই ওষুধের চাহিদাও বৃদ্ধি পাবে। সব থেকে বড় বিষয় এই ওষুধ ভারতেই উৎপন্ন হয়। ফলে ওষুধের জন্য অন্য দেশের উপর নির্ভরশীল হতে হবে না।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ফ্যামোটিডিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে তবে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের মতো মারা’ত্মক কিছু নয়। মাথা ব্যথা, পেট খারাপের মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়, তবে সেটা রো’গীর শারীরিক অবস্থা ও ওষুধের ডোজের উপর নির্ভর করে। ভারত এই ওষুধ নিজেই বানাতে পারবে, বাইরে থেকে কাঁচামাল আমদানির প্রয়োজন পড়বে না। সান ফার্মা, টোরেন্ট ফার্মাসিউটিক্যালস ও ক্যাডিলা এই ওষুধ তৈরি করে। বছরে সাত কোটির উপর ফ্যামোটিডিন ট্যাবলেট বিক্রি হয় দেশে। যে ব্যবসার মোট পরিমাণ ৩৭ কোটি টাকা।

প্রতীকী ছবি

চীনের উহানে যে ডাক্তাররা করো’না আক্রা’ন্তদের চিকিৎসা করেছেন, তাঁরা বলছেন, যদিও সেখানে ৮০ বছরের বেশি বয়সি করো’না রো’গীদের পাঁচজনের একজনই মারা গেছেন, কিন্তু যাঁরা মা’রা যাননি, তাঁদের অনেকেই নিয়মিত ফ্যামোটিডিন খেতেন। বদহজম সারাতে এই ওষুধ খেতেন, এমন করো’না আক্রা’ন্তদের মধ্যে মৃ’ত্যুর হার ১৪ শতাংশ। যাঁরা এই ওষুধ খেতেন না, তাঁদের ২৭ শতাংশ মা’রা গেছেন। সায়েন্স ম্যাগাজিন অবশ্য উহানের ডাক্তারদের এই সরল সিদ্ধান্তে সহমত হতে পারেনি। ২৬ এপ্রিল পত্রিকাটিতে প্রকাশিত এক রিপোর্টে পরীক্ষার ফল ‘‌সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে গুরুত্বপূর্ণ নয়’‌ বলে তারা মন্তব্য করেছে।‌

প্রতীকী ছবি

নিউ ইয়র্কের অন্যতম বড় হেলথকেয়ার ইনস্টিটিউট নর্থওয়েল হেলথের ফেইনস্টেইন ইনস্টিটিউট ফর মেডিক্যাল রিসার্চে করো’না রো’গীদের উপর এই ওষুধের ট্রায়াল শুরু হয়েছে ৭ এপ্রিল থেকে। সায়েন্সে ম্যাগাজিনের জার্নালে এই ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট কেভিন ট্রেসি জানিয়েছেন, ১১৭৪ জন রো’গীকে এই ওষুধ খাওয়ানো হয়েছে। যাদের মধ্যে ১৮৭ জনের অবস্থা সঙ্ক’টজ’নক। রো’গীদের এখনও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। কোনও ক্ষ’তিকর প্রভাব দেখা যায়নি, তবে ট্রায়ালের ফলাফল এলেই বিস্তারিত রিপোর্ট দেওয়া সম্ভব হবে।

সূত্র –