ভয়ঙ্কর তথ‍্য, এখন আর ১ মিটার দূরত্বও নিরাপদ নয় ১৩ ফুট দূরত্বেও ছড়াতে পারে করোনা! দাবি চীনা গবেষকদের

0
971
প্রতীকী ছবি

সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং শব্দটার সঙ্গে বিগত বেশ কয়েকদিন ধরেই আমরা পরিচিত হয়েছি। সেক্ষেত্রে বলা হচ্ছে, দু’জন মানুষের মধ্যে একথা নির্দিষ্ট গ্যাপ রাখতে হবে, তাহলে সংক্রমশ ছড়ানোর সম্ভাবনা কমবে। এত দিন বলা হচ্ছিল করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীর কাছ থেকে অন্তত ১ মিটার দূরত্ব বজায় রাখতে। এতে সুস্থ ব্যক্তির আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। তবে চীনের গবেষকদের নতুন এক গবেষণায় ভয়ঙ্কর তথ‍্য দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) জার্নাল এমারজিং ইনফেকশাস ডিজিসে চীনের গবেষকদের ওই গবেষণা প্রতিবেদনটি শুক্রবার প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে ১৩ ফুট বা চার মিটার দূরেও বাতাসে ছড়াতে পারে করোনাভাইরাস।

প্রতীকী ছবি

চিনের গবেষকরা হাসপাতালের জেনারেল ওয়ার্ড ও আইসিইউ থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন। উহানের হাসপাতালে সেইসময় ২৪ জন করোনা আক্রান্ত ভর্তি ছিল। গবেষকরা দেখেছেন, ভাইরাসের ড্রপলেট এতটাই সূক্ষ যে সেটা বাতাসে অনেকক্ষণ থাকতে পারে, বেশ কয়েক ঘণ্টা। কিন্তু কাশি বা হাঁচি থেকে বেরনো ড্রপলেট তুলনায় ভারী ও নীচে পড়ে যায়। এরপর সেসব নমুনা নিয়ে গবেষণা শুরু হয়। গবেষকরা দেখতে পান, হাসপাতালের ওয়ার্ডের মেঝেতে প্রচুর করোনাভাইরাসের জীবাণু ছড়িয়ে আছে।

প্রতীকী ছবি

এমনকি ওয়ার্ডে থাকা কম্পিউটারের মাউস, কিবোর্ড, দরজার হাতল বা বিছানার বাইরের অংশেও জীবাণুর সন্ধান মিলেছে। করোনাভাইরাসের রোগী রয়েছেন- এমন আইসিউতে কাজ করা স্বাস্থ্য কর্মীদের জুতাতেও করোনাভাইরাসের জীবাণুর সন্ধান মিলেছে। এভাবেই মূলত সংক্রমণ ছড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁরা দেখেছেন ভাইরাসের এরোসোল ১৩ ফুট পর্যন্ত উঠতে পারে। সুতরাং তিন ফুট বা ছ’ফুট দূরত্বই যথেষ্ট নয়। তবে হাওয়ায় ভাসতে থাকা সেই এরোসোল সংক্রমণ করে কিনা, তা এখনও বোঝা যাচ্ছে না।

প্রতীকী ছবি

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এরকম সংক্রমণের সম্ভাবনা কম বলেই জানিয়েছে। যদিও গবেষকরা এও জানিয়েছেন, বেশির ভাগ কণাই মাটিতে পড়ে থাকে বা মাটির কাছাকাছি থাকে। তবে ওই হাসপাতালের কোনও স্টাফ সংক্রামিত হয়নি। যা থেকে প্রমাণিত, সঠিক সুরক্ষা ব্যবস্থা করলে ভাইরাস থেকে বাঁচা সম্ভব।

সূত্র –