অদ্ভুত কিছু ব্যাপার রয়েছে এই শিশুগুলির মধ্যে! নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করবেন না

0
1879
Brightside

সমস্ত শিশু তাদের নিজস্ব ভাবে ভিন্ন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বেশ আনন্দদায়ক আবার অন্যরা বেশ গম্ভীর প্রকৃতির। কিন্তু এই শিশুরা তাদের সুন্দর এবং অনন্য উপস্থিতির সঙ্গে আমাদের বিস্মিত করেছে। প্রকৃতিও আমাদেরকে বিস্মিত করতে পারে, বিশেষ ব্যতিক্রমী এবং দক্ষতার সাথে অসাধারণ মানুষজনকে তৈরি করে ।

আজ আমরা আপনাদের সামনে সারা বিশ্বের এরকমই ১০ জন বিস্ময়কর শিশুর কথা বলবো যাদের সচরাচর দেখা যায় না। এইসব শিশুদের দেখে আপনিও বলবেন যে প্রকৃতির কাছে মানুষ এখনও অসহায়, প্রকৃতি চাইলে অনেক কিছুই করতে পারে। এই শিশুগুলির মধ্যে জন্ম থেকেই অদ্ভুত কিছু বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়, যেটা আপনি আর পাঁচটা স্বাভাবিক শিশুর মধ্যে দেখতে পাবেন না। আসুন দেখে নেওয়া এই ১০ জন বিস্ময়কর শিশুকে ।

১. নারিয়ানা

নারিয়ানা রাশিয়ার ইয়াকুতিয়া অঞ্চলের মেয়ে। তার এরকম অদ্ভুত দর্শন রুপের কারণ হল, সে একজন আলবিনো অর্থাৎ যাদের ত্বকে মেলানিন খুব কম থাকে বা থাকে না বললেই চলে। এর কারণে এদের গায়ের রঙ ফ্যাকাসে হয়। অন্যান্য বাচ্চাদের মতোই সে স্কুলে যায়, কিন্তু সে রোদে বেশিক্ষণ থাকতে পারে না, আর রোদে থাকলে তাকে সানগ্লাস ব্যবহার করতে হয়। Vadim Rufov নামের ফটোগ্রাফার যখন তার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রথম শেয়ার করে তখন থেকেই সে জনপ্রিয় হয় এবং বর্তমানে বিভিন্ন ফটোশ্যুটের জন্য ডাক পায়।

২. মিলিয়ানা ওরথি

মিলিয়ানা এই ধরণের ধূসর বর্ণের চুল নিয়েই জন্মগ্রহণ করেছে। এটা তাদের জিনগত সমস্যা। তাদের চতুর্থ বংশধর সে, কিন্তু তার মধ্যেও এই সমস্যা রয়ে গেছে। এটিকে বলা হয় polyposis অর্থাৎ এক্ষেত্রে শরীরে মেলানিনের অভাব থাকে। যার কারণে মাথার চুল, ভ্রূ-র চুল, বা চোখের পাতার লোমও বিবর্ণ দেখা যায়। তবে বাচ্চাটিকে এই রকম চুলের রঙে বেশ কিউট লাগছে, তাই বাচ্চাটি তার এই লুকের জন্য যথেষ্ঠ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

৩. জুনিয়র কক্স-নুন

এই বাচ্চাটি জন্মের সময় সাড়ে চার কেজি ওজনের ছিল। খুব শীঘ্রই তার লুকের জন্য স্বানীয় এলাকায় সে সেলিব্রিটি হয়ে যায়। তার মোটা চুল এবং চুলের স্টাইলের জন্য তার ডাকনাম দেওয়া হয় “little bear”. সে জন্মানোর সময় এরকম মোটা আর ঘন চুল নিয়ে জন্মায়, যেটা তাদের জিনগত সমস্যা। অনেকেই বলেন যে, ওই চুল আর বড় হবে না, কিন্তু সকলকে ভুল প্রমাণ করে সেই চুল একই রকম রয়েছে এবং বড়ও হচ্ছে।

৪. জাম্বুলত হথোহভ

জাম্বুলত হথোহভ-এর গিনেস বুকে রেকর্ড রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে ভারি শিশু হওয়ার। জন্মানোর সময় তার দৈর্ঘ্য ছিল ৫০সেমি. এবং ওজন ছিল ৩ কেজি, যেটা অন্যান্য শিশুর মতোই সাধারণ। কিন্তু ১ বছর বয়স হতেই তার ওজনে আমূল পরিবর্তন আসে। ১ বছর বয়সে তার ওজন হয় ১৭ কেজি এবং ২ বছর বয়সে তার ওজন হয় ৩৪ কেজি। একটি ব্রিটিশ টেলিভিশন শো, ফ্রেমওয়ার্ক অফ প্রজেক্ট বডিশক -তে অংশগ্রহণের পর সে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়।

৫. মুইন বাচোনেভ

এই বালকের সবচেয়ে লম্বা চোখের ভ্রু রয়েছে রাশিয়াতে। তার ভ্রু-র দৈর্ঘ্য প্রায় ৩.৫ সেমি। হাসপাতালে তার জন্মের সময়ই শোরগোল পড়ে যায়। তার মাথার চুল তো বড় ছিলই, উপরন্তু তার ভ্রু দুটি তার গালে এসে ঠেকেছিল। মুইন এর মতে এই লম্বা ভ্রু তাকে বিব্রত করে না, বরং সে খুশিই হয় কারণ সে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তার এই লম্বা ভ্রু যুগলের মাধ্যমে।

৬. আভা ক্লার্ক

আভা যখন জন্মায় তখনই সে পরিবারের সকলকে অবাক করে দেয়। তার চোখের মণির রঙ ছিল নীল, আর ঠোঁট ছিল উজ্জ্বল গোলাপি বর্ণের আর চুল এবং গায়ের রঙ একেবারে ফ্যাকাসে ছিল। এটা একেবারেই অস্বাভাবিক ছিল কারণ তার বাবা-মার চোখের রঙ ছিল খয়েরি এবং গায়ের রঙ সামান্য কালো ছিল। পরে জানা যায় সে একজন আলবিনো। সে পরবর্তীকালে দৃষ্টিশক্তি হারাতে শুরু করে যে কারণে তার দুবার চোখের অপারেশন করা হয় এবং এখন সে চশমা ব্যবহার করে। ইতিমধ্যে তাকে ডেনিম ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদেও দেখা গেছে।

৭. গিওলিয়ানো স্ট্রো

গিওলিয়ানো একজন রোমানিয়ান অ্যাথলিট এবং বডিবিল্ডার। তার দু বছর বয়স থেকে সে এই খেলাধুলা ও বডি বিল্ডিং শুরু করে। তার নামে একাধিক রেকর্ড রয়েছে গিনেস বুকে। একটি ইতালিয়ান টিভি শো-তে দর্শকের সামনে সে যখন তার বডির কেরামতি দেখায়, তখন থেকেই সে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে যায়। ইউটিউবেও রীতিমত স্টার এই বিস্ময় বালক।

৮. জারে ইজালানা

Mofe Bamuyiwa নামের এক নাইজেরিয়ান ফটোগ্রাফার যখন জারের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন তখন তিনি সেই ছবিতে বিপুল সংখ্যক লাইক পান, যা আগে তিনি পাননি। এরপর সেই ছবিতে আসতে থাকে প্রশংসা ভরা কমেন্ট, বলা হয় এই মেয়েটি বিশ্বের সবচেয়ে সবচেয়ে সুন্দর শিশু।

৯. বুধাথোকি শিশু

নেপালের পার্বত্য অঞ্চলে বুধাথোকি নামের এক পরিবার বাস করে, যাদের মধ্যে Werewolf Syndrome দেখা যায়। এই পরিবারের সকলের গায়ে ও মুখে এরকম অদ্ভুত লোম দেখা যায় এবং সেই পরিবারে জন্মানো শিশুরাও এরকমই হয়। বুধাথোকির পরিবারে তিনটি শিশু রয়েছে এবং সকলেরই এই সমস্যা রয়েছে যা জন্ম থেকেই দেখা যায়।

১০. চাহত কুমার

আমাদের দেশের এই মেয়েটির নাম চাহত কুমার এবং তার মধ্যে অদ্ভুত রকমের ক্ষিদে লক্ষ্য করা যায়। ৮ মাস বয়সেই তার ওজন হয়ে যায় ১৭ কেজি। তাদের পরিবারের মতে তাদের মেয়ের এই অতিরিক্ত ক্ষিদের জন্য দায়ী ভগবান। দিন দিন চাহতের ক্ষিদে বেড়েই চলেছে। তার বাবা-মা তাকে কম খাবার দিলেও সে সবসময়ই আরও বেশি খেতে চায়।

আপনাদের কি মনে হয় না এই শিশুগুলি সত্যিই বিস্ময়কর? আপনাদের মতামত কমেট করে জানান।

Source