মা কোলে নিতেই নড়ে উঠলো মৃ’ত বলে ফেলে রাখা নব’জাতক!

0
231

ঘটনাটি ঘটেছে আমাদের প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে। মেঝের ওপর দীর্ঘ সময় ফেলে রাখে – চুয়াডাঙ্গায় সদ্য জন্ম নেয়া জান্নাতুলকে চিকিৎসক মৃ’ত ঘোষণার পরেই মায়ের কোলে নড়ে উঠে। এরপর দ্রুত ক্লিনিক থেকে চিকিৎসার জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান নব’জাতকটি সুস্থ হয়ে উঠছে।

শিশুটির স্বজন ও স্থানীয়সূত্রে জানা গেছে, নব’জাতককে মৃ’ত ভেবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মেঝের ওপর দীর্ঘ সময় ফেলে রাখে। মৃ”ত ভেবে নব’জা’তকটি বাড়িতে নেওয়ার আগে মা সন্তানকে কোলে তুলে নেয়। এ সময় শিশুটি নড়ে উঠে। সঙ্গে সঙ্গে জান্নাতুলের স্বজনরা চিকিৎসক ডেকে নিয়ে আসেন। ডাক্তার এসে শিশু জান্নাতুলকে স্থানান্তর করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে। সেখানে সুস্থ হয়ে উঠেছে জান্নাতুল। হাত-পা নেড়ে খেলছে। পিটপিট করে তাকাচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার হাজরাহাটি গ্রামের মুদি দোকানি আবদুল হালিম ও জিনিয়া খাতুনের বিয়ে হয় বেশ কয়েক বছর আগে। জিনিয়ার গ’র্ভে সন্তান আসার পর তাকে নিয়মিত চেকআপ করতেন জেলা শহরের উপশম নার্সিং হোমের স্বত্ত্বাধিকারী ডা. জিন্নাতুল আরা। রোববার বিকালে জিনিয়ার পেটে ব্য’থা শুরু হলে তাকে নেয়া হয় ডা. জিন্নাতুল আরার কাছে। সেখানে তার তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন জিনিয়া। ভোর ৪টার দিকে কন্যাসন্তান প্র’স’ব করেন জিনিয়া খাতুন।

via

জিনিয়া খাতুন বলেন, ‘ভোরে আমাকে বলা হলো বাচ্চা মা’রা গেছে। এরপর আমরা পরিবারের অন্যান্যকে জানাই। দা’ফ’ন কা’ফ’নে’র জন্যও প্রস্তুতি নিতে থাকে স্বামী ও স্বজনরা। এরই মধ্যে শিশুটিকে অ’য’ত্ন অবহেলায় মেঝের ওপর রেখে দেয়া হয়।

তিনি বলেন, মৃ”ত বলে তাকে একটি পলিথিন এনে মুড়িয়ে ফেলা হচ্ছিল। এ সময় আমি কাঁ’দ’তে কাঁ’দ’তে মেয়েকে একবার শেষবারের মতো কোলে নিয়ে দেখতে চাই। কোলে নিতেই আমার মেয়ে নড়ে ওঠে। এ সময় পুনরায় ডা. জিন্নাতুল আরাকে ডাকা হলে তিনি শিশুকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করতে বলেন।’

via

জিনিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি ডাক্তারের কথায় বিশ্বাস করলে পলিথিনের মধ্যে আমার মেয়ে ম’রে থাকত।’ এদিকে সোমবার (২০ জানুয়ারি) সকালে ওই শিশুকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। এরপর খবরটি ছড়িয়ে পড়ে।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ মাহাবুবুর রহমান মিলন বলেন, ন’ব’জাতকটি নির্দিষ্ট সময়ের আগে ভূমিষ্ঠ হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বর্তমানে তার অবস্থা উন্নতির দিকে। তবে আ’শ’ঙ্কা’মু’ক্ত এখনি বল যাবে না। এ ব্যাপারে ডা. জিন্নাতুল আরা বলেন, শিশুটি যখন হয় একেবারেই শ্বা’স-প্র’শ্বাস ছিল না। নাভির কাছে কেবল ঢি’বঢিব শব্দ ছিল। চার ঘণ্টা অক্সিজেন দেয়ার পর সে কিছুটা সুস্থ হলে আমরা আজ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দিই।

সূত্র – প্রবাস বার্তা